Samsung Galaxy A37 রিভিউ: মিড রেঞ্জ বাজেটে পারফরম্যান্স কতটা শক্তিশালী?
Samsung Galaxy A37 রিভিউ: মিড রেঞ্জ বাজেটে পারফরম্যান্স কতটা শক্তিশালী?
- Super AMOLED ডিসপ্লে
- Gorilla Glass Victus Plus প্রটেকশন
- 50+8+5MP রেয়ার ক্যামেরা
- Exynos 1480 (4nm) চিপসেট
- Galaxy AI ফিচার নেই
- Samsung DeX ফিচার নেই
মিড রেঞ্জ বাজেটের মধ্যে উন্নত মানের ফিচার নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে আনঅফিশিয়ালি এসেছে Samsung Galaxy A37 স্মার্টফোন। ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 4 ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি Exynos 1480 প্রসেসর, যা খুব দ্রুত ও স্মুথ পারফরম্যান্স প্রদান করে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য ফোনটিতে রয়েছে 5000mAh ব্যাটারি।
Samsung Galaxy A37 স্মার্টফোনে 120Hz রিফ্রেশ রেট সমর্থিত Super AMOLED ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে, যা স্ক্রলিং ও অ্যানিমেশনকে মসৃণ করে এবং ভিডিও ও গেমিংয়ের অভিজ্ঞতাকে আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তোলে। এছাড়া ধুলোবালি ও পানি প্রতিরোধের জন্য ফোনটিতে রয়েছে IP68 রেটিং। ফোনের পারফরম্যান্স এবং দাম সম্পর্কে সম্পূর্ণ রিভিউ দেখুন।
Samsung Galaxy A37 ফোনের শক্তিশালী ফিচারসমূহ
- প্রসেসর: Exynos 1480 (4nm) চিপসেট।
- ডিসপ্লে: 6.7 ইঞ্চির Super AMOLED স্ক্রিন এবং 120Hz রিফ্রেশ রেট।
- ব্যাটারি ও চার্জার: 5000mAh ব্যাটারি এবং 45W ফাস্ট চার্জিং।
- ক্যামেরা: 50+8+5MP রেয়ার এবং 12MP ফ্রন্ট।
- বিল্ড: স্ক্র্যাচ-প্রতিরোধী Gorilla Glass Victus Plus প্রটেকশন।
বাক্সে যা থাকছে
Samsung Galaxy A37 স্মার্টফোনের বাক্স খুললে ভেতরে যেসব জিনিস পাওয়া যায়, তা হলো:
- Samsung Galaxy A37 স্মার্টফোন
- USB টাইপ-সি ক্যাবল
- সিম ইজেক্টর টুল
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
Samsung Galaxy A37 এর বাক্সে সাধারণত একটি স্মার্টফোন, একটি USB Type-C ক্যাবল, সিম ইজেক্টর টুল এবং ইউজার ম্যানুয়ালসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকে। তবে এতে আলাদা কোনো চার্জার বা প্রোটেক্টিভ কেস দেওয়া হয় না। তাই দ্রুত চার্জিং সুবিধা ব্যবহার করতে চাইলে এবং ফোনকে সুরক্ষিত রাখতে চাইলে আলাদা করে চার্জার ও কেস কিনে নিতে হয়।
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি
Samsung Galaxy A37 স্মার্টফোনের ডিজাইন দেখতে প্রিমিয়াম এবং আকর্ষণীয়। ফোনটির পেছনের অংশ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। এটি একদিকে হালকা, অন্যদিকে বেশ মজবুত, ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে ছোটখাটো ধাক্কা, স্ক্র্যাচ বা ঘষা-মাজা সহজেই সহ্য করতে পারে। ফোনটির ক্যামেরা মডিউল পেছনের অংশের উপরে বাম পাশে লম্বা লাইনে সাজিয়ে রাখা হয়েছে, যা দেখতে বেশ স্লিম এবং আধুনিক।

ফোনটির উচ্চতা প্রায় 162.9 mm, প্রস্থ 78.2 mm এবং বডি 7.4 mm স্লিম। এছাড়া ওজন প্রায় 196 গ্রাম হলেও, এতে পর্যাপ্ত পরিমান ভারসাম্য রাখা হয়েছে। ফোনের চারপাশের কোণগুলো হালকা গোল, তাই ফোনটি ধরে রাখতে আরামদায়ক লাগে এবং হাত থেকে পিছলে পড়ার ঝুঁকিও কম থাকে। এছাড়া ফোনের ডিসপ্লের বেজেলগুলো পাতলা, যা ফোনটিকে স্টাইলিশ লুক দেয় এবং ব্যবহারেও ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
ফোনটিতে Super AMOLED ডিসপ্লে রয়েছে, যা স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা ও গেম খেলার অভিজ্ঞতাকে আরও স্মুথ ও রঙিন করে তোলে। এছাড়া ফোনটিতে IP68 রেটিং রয়েছে, যার ফলে ফোনটি ধুলোবালি থেকে সুরক্ষিত থাকে এবং প্রায় ১.৫ মিটার পানির নিচে ৩০ মিনিট পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় পানির নিচে রাখা বা উচ্চ চাপের পানির প্রবাহে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
ডিসপ্লে এবং মাল্টিমিডিয়া
Samsung Galaxy A37 স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হয়েছে 6.7 ইঞ্চির Super AMOLED ডিসপ্লে, যা ভিডিও দেখা, ছবি দেখা বা গেম খেলার সময় রঙগুলো উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখায়, আর চোখেও আরাম লাগে। স্ক্রিনের চারপাশের বেজেল তুলনামূলকভাবে পাতলা, তাই ডিসপ্লেটি দেখতে আরও বড় ও আকর্ষণীয় মনে হয়। এছাড়া ডিসপ্লেতে 120Hz রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে, যার ফলে স্ক্রল করা, গেম খেলা এবং বিভিন্ন অ্যানিমেশন অনেক বেশি মসৃণ ও দ্রুত অনুভূত হয়।

ফোনটির স্ক্রিন সর্বোচ্চ প্রায় 1900 nits উজ্জ্বলতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর কারণে বাইরের রোদে বা উজ্জ্বল আলোতেও ভিডিও, ছবি বা ওয়েবপেজ সহজে এবং পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। এছাড়া ডিসপ্লেতে Gorilla Glass Victus Plus প্রোটেকশন রয়েছে, যা স্ক্রিনকে আরও শক্তিশালী করে, ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারের সময় ছোটখাটো স্ক্র্যাচ, ধাক্কা বা হালকা পড়ে যাওয়ার মতো হ্মতি থেকে ভালো সুরক্ষা পাওয়া যায়।
ফোনটির স্ক্রিনের রেজোলিউশন FHD+ (1080×2340 পিক্সেল), এর কারণে ছবি ও ভিডিওগুলো আরও পরিষ্কার ও ডিটেইলসহ দেখা যায়। গেম খেলার সময় রঙগুলো উজ্জ্বল ও জীবন্ত মনে হয়। বড় ডিসপ্লে হওয়ায় ব্যবহার করাও আরামদায়ক লাগে এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলেও চোখে তুলনামূলক কম চাপ পড়ে। এছাড়া ফোনটির স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও প্রায় 86.5%, তাই স্ক্রিনের জায়গা বেশি পাওয়া যায়, ফলে ভিডিও বা সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা আরও ভালো, স্পষ্ট এবং চোখে আরামদায়ক হয়।
ক্যামেরা
Samsung Galaxy A37 স্মার্টফোনের রেয়ারে রয়েছে f/1.8 অ্যাপারচারের 50MP প্রাইমারি ক্যামেরা, যেখানে LED ফ্ল্যাশ HDR এবং Continuous Shooting ফিচার সমর্থন করে। এই ক্যামেরাটি ডিটেইল এবং রঙের সঠিক অনুপাতে চমৎকার ছবি তুলতে পারে। HDR ফিচারের কারণে আলো ও ছায়ার ভারসাম্য ঠিক থাকে, ফলে ছবিগুলো আরও স্বাভাবিক, পরিষ্কার এবং আকর্ষণীয় দেখা যায়। আর Continuous Shooting মোড দ্রুত চলমান বস্তুর একাধিক ছবি একসাথে তুলতে সাহায্য করে পাশাপাশি রয়েছে 8MP আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। এই ক্যামেরাটি ল্যান্ডস্কেপ বা গ্রুপ ছবি তোলার জন্য বেশ উপযোগী, কারণ এক ফ্রেমে বেশি জায়গা বা দৃশ্য সহজেই ক্যাপচার করা যায়। সাথে থাকছে 5MP মাইক্রো ক্যামেরা, যা খুব কাছ থেকে ছোট ছোট বস্তুর ছবি স্পষ্টভাবে তুলতে সাহায্য করে।

ফোনটির রেয়ার ক্যামেরা দিয়ে দিনের আলোতে খুব ভালো ও পরিষ্কার ছবি তোলা যায় এবং 4K@30fps রেজোলিউশনে ভিডিও রেকর্ড করা সম্ভব হয়। তবে কম আলো বা রাতে ছবি তুললে কিছুটা ঝাপসা দেখা দিতে পারে। একইভাবে রাতে ভিডিও রেকর্ড করার সময় 4K সাপোর্ট থাকলেও ভিডিও-এর মান তুলনামূলকভাবে কম ভালো হতে পারে।
ফোনের সামনে ব্যবহার করা হয়েছে f/2.2 অ্যাপারচারের 12MP ফ্রন্ট ক্যামেরা। দিনের আলোতে এই ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিতে ত্বকের রঙ স্বাভাবিক দেখায়, ব্যাকগ্রাউন্ড পরিষ্কার থাকে এবং রঙগুলো উজ্জ্বল ও জীবন্ত লাগে। তবে কম আলো বা রাতে f/2.2 অ্যাপারচারের কারণে ছবি পুরোপুরি পরিষ্কার নাও হতে পারে। তারপরও LED ফ্ল্যাশ ব্যবহার করলে রাতে তুলনামূলকভাবে ভালো সেলফি তোলা সম্ভব। ভিডিও-এর ক্ষেত্রে ফ্রন্ট ক্যামেরা 1080p@30fps রেজোলিউশন পর্যন্ত ভিডিও রেকর্ডিং করতে পারে, যা ভিডিও কল, সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট বানানোর জন্য যথেষ্ট ভালো।
সফটওয়্যার এবং পারফরম্যান্স
Samsung Galaxy A37 ফোনটি One UI 8.5 ভিত্তিক Android 16 অপারেটিং সিস্টেমে চলে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ, দ্রুত এবং স্মার্ট ব্যবহার অভিজ্ঞতা দেয়। এতে প্রাইভেসি কন্ট্রোল, দ্রুত সেটিংস অ্যাক্সেস, স্মার্ট উইজেট এবং থিম কাস্টমাইজ করার সুবিধা রয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা যেকোনো অ্যাপ সহজেই ব্যবহার করতে পারে এবং একসাথে একাধিক কাজ স্মুথভাবে করতে পারে। এছাড়া Android 16 সিস্টেমটি আরও উন্নত নিরাপত্তা ও ভালো পারফরম্যান্স দেয়, যার কারণে ব্যাটারি কম খরচ হয় এবং ফোনটি আরও মসৃণভাবে চলে।

ফোনটিতে 4 ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি Exynos 1680 প্রসেসর দেওয়া হয়েছে, যা সর্বোচ্চ 2.75 GHz ক্লক স্পীডে কাজ করে। সাথে রয়েছে উন্নত Xclipse 530 GPU এবং 8GB র্যাম। পারফরম্যান্স পরীক্ষা করার জন্য এই ফোন আমি ব্যবহার করে দেখেছি। ফোনটিতে PUBG Mobile, COD Mobile বা Asphalt সিরিজের মতো ভারী গেমগুলোও হাই সেটিংসে ভালোভাবে খেলা গেছে। গেম খেলার সময় পারফরম্যান্স বেশ স্থিতিশীল ছিল, লোডিং টাইম তুলনামূলকভাবে কম ছিল এবং গেমপ্লে চলাকালীন বড় ধরনের ল্যাগ বা হ্যাং দেখা যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় খেলার পর ফোন হালকা গরম হয়েছিল।
নিরাপত্তার জন্য ফোনটিতে যুক্ত করা হয়েছে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং ফেস আনলক ফিচার। এছাড়া কানেক্টিভিটির জন্য এই ফোনে 5G নেটওয়ার্ক, Bluetooth 5.4, USB চার্জিং, Wi-Fi 6 এবং NFC সাপোর্ট করে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ফোনটির সফটওয়্যার ও পারফরম্যান্স মিড-রেঞ্জ ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট ভালো এবং নির্ভরযোগ্য।
ব্যাটারি লাইফ এবং চার্জার
Samsung Galaxy A37 স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হয়েছে 5000mAh ব্যাটারি, যা সাধারণ ব্যবহার যেমন কল করা, এসএমএস পাঠানো, ভিডিও দেখা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করার ক্ষেত্রে ফোনটির চার্জ এক দিনের বেশি টিকে থাকতে পারে। এছাড়া দ্রুত চার্জ করার জন্য এই ফোনে রয়েছে 45W ফাস্ট চার্জিং। ফোনটিতে USB Type-C 2.0 পোর্টের মাধ্যমে চার্জ করা যায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মিড-রেঞ্জ বাজেটের মধ্যে Samsung Galaxy A57 ফোনটির ব্যাটারি ও ফাস্ট চার্জিং সুবিধা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য যথেষ্ট ভালো। কারণ দৈনন্দিন কাজ যেমন কল করা, মেসেজ পাঠানো, ভিডিও দেখা বা হালকা গেম খেলার ক্ষেত্রে ব্যাটারি দীর্ঘ সময় টিকে থাকে। তবে যারা দীর্ঘ সময় ধরে ভারী গেম খেলেন বা বেশি সময় অনলাইনে কাজ করেন, তাদের কাছে ব্যাটারির ব্যাকআপ তুলনামূলকভাবে কম মনে হতে পারে।
মূল্য
মিড রেঞ্জ বাজেটের মধ্যে উন্নত মানের ফিচার নিয়ে Samsung Galaxy A37 স্মার্টফোন বাংলাদেশে শুধুমাত্র একটি ভ্যারিয়েন্টে এসেছে। ফোনের (8GB র্যাম+128GB স্টোরেজ) ভ্যারিয়েন্টের দাম ৪১,০০০ টাকা। ফোনটি আকর্ষণীয় চারটি কালারে রয়েছে Graygreen, Charcoal, White এবং Light Violet। বর্তমানে এই ফোনটি বাংলাদেশের বিভিন্ন রিটেইলার শপ বা দোকানে পাওয়া যাচ্ছে।
Samsung Galaxy A37 মিড রেঞ্জ বাজেটে কেনা উচিত হবে কি?
Samsung Galaxy A37 স্মার্টফোনে রয়েছে Exynos 1680 প্রসেসর, যা খুবই উন্নত মানের পারফরম্যান্স প্রদান করে। এছাড়া Super AMOLED ডিসপ্লে চমৎকার ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দেয়। রেয়ার ক্যামেরা 50+8+5MP দারুণ ছবি তুলতে পারে এবং ভিডিও ধারণ করতে পারে। কিন্তু ব্যাটারি কিছুটা কম ক্ষমতার হওয়ায় কিছু ব্যবহারকারীর কাছে অসুবিধাজনক মনে হতে পারে। তবে যারা মিড-রেঞ্জ বাজেটে ভালো ডিসপ্লে, শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং ভালো ক্যামেরা চান, তাদের জন্য এই ফোনটি একটি ভালো অপশন হতে পারে।
Related Reviews
View More
Vivo Y11d 4G রিভিউ: বাজেট ফ্রেন্ডলি ফোন হিসেবে কতটা ভ্যালু দেয়?
বাংলাদেশের বাজারে অফিশিয়ালভাবে লঞ্চ হয়েছে Vivo Y11d 4G স্মার্টফোন। বাজেট ফ্রেন্ডলির মধ্যে যারা ব্যাট...
Tecno Spark 50 5G রিভিউ: বাজেট অনুযায়ী পারফরম্যান্স কি সন্তোষজনক?
আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং উন্নত মানের ফিচার নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে অফিশিয়ালি লঞ্চ হয়েছে Tecno Spark 50 5G...
Tecno Spark 50 4G রিভিউ : এই বাজেটে পারফরম্যান্স কি সত্যিই ভালো?
বাজেট ফ্রেন্ডলির মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে অফিশিয়ালি লঞ্চ হয়েছে Tecno Spark 50 4G স্মার্টফোন। ফোনটিতে...