iQOO Z11x 5G রিভিউ: মিড-রেঞ্জের মধ্যে এই ফোন আপনার কেনা উচত হবে কি?
iQOO Z11x 5G রিভিউ: মিড-রেঞ্জের মধ্যে এই ফোন আপনার কেনা উচত হবে কি?
- 7200mAh বড় ব্যাটারি
- Dimensity 7400 Turbo চিপসেট
- 50MP Sony প্রাইমারি ক্যামেরা
- IPS LCD ডিসপ্লে
চমৎকার ডিজাইন এবং উচ্চ মানের ফিচার নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে আনঅফিশিয়ালভাবে এসেছে iQOO Z11x 5G স্মার্টফোন। যারা মিড-রেঞ্জের মধ্যে ভালো ক্যামেরা, বড় ব্যাটারি এবং উন্নত মানের পারফরম্যান্স চান তাদের জন্য ফোনটি তৈরি। ফোনটিতে রয়েছে 7200mAh বড় ব্যাটারি, যা দীর্ঘ সময় ব্যবহারের সুবিধা নিশ্চিত করে।
iQOO Z11x 5G স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হয়েছে 4 ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি Mediatek Dimensity 7400 Turbo প্রসেসর, যা ভারী গেম এবং দৈনন্দিন কাজের সময় খুব ভালো পারফরম্যান্স প্রদান করে। এছাড়া ফটোগ্রাফির জন্য ফোনের রেয়ারে রয়েছে 50MP Sony প্রাইমারি ক্যামেরা। আমাদের এই রিভিউতে জেনে নিন ফোনের ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি, ক্যামেরা, পারফরম্যান্স, ব্যাটারি এবং মূল্য।
iQOO Z11x 5G ফোনের শক্তিশালী ফিচারসমূহ
- প্রসেসর: Mediatek Dimensity 7400 Turbo (4nm) চিপসেট।
- ডিসপ্লে: 6.76 ইঞ্চির IPS LCD স্ক্রিন এবং 120Hz রিফ্রেশ রেট।
- ব্যাটারি ও চার্জার: 7200mAh বিশাল ব্যাটারি এবং 44W ফাস্ট চার্জিং।
- ক্যামেরা: 50+2MP ডুয়েল রেয়ার ক্যামেরা এবং 32MP ফ্রন্ট ক্যামেরা।
- বিল্ড: ধুলোবালি ও পানি প্রতিরোধী উচ্চ মানের IP68/IP69 রেটিং।
বাক্সে যা থাকছে
iQOO Z11x 5G স্মার্টফোনের বাক্স খুললে ভেতরে যেসব জিনিস পাওয়া যায়, সেগুলো হলো:
- iQOO Z11x 5G স্মার্টফোন
- 44W ফাস্ট চার্জার
- USB টাইপ-সি ক্যাবল
- প্রোটেকটিভ কেস
- সিম ইজেক্টর টুল
- ইউজার ম্যানুয়াল
iQOO Z11x 5G স্মার্টফোনের বাক্সটি দেখতে সাধারণ হলেও এর মধ্যে রয়েছে সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। বাক্সে আপনি পাবেন একটি মোবাইল, 44W ফাস্ট চার্জার, USB টাইপ-সি ক্যাবল, একটি সিলিকন প্রোটেক্টিভ কেস, সিম বের করার পিন এবং ইউজার ম্যানুয়াল। এই সব জিনিসপত্র একসাথে থাকার কারণে ব্যবহারকারী ফোনটি বাক্স থেকে বের করেই তৎক্ষণাৎ ব্যবহার শুরু করতে পারেন।
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি
মিড-রেঞ্জের iQOO Z11x 5G স্মার্টফোনের ডিজাইন খুবই চমৎকার এবং আকর্ষণীয়। ফোনের বডি সাধারণত পলিকার্বোনেট বা প্লাস্টিকের তৈরি, তবে কিছু অংশে গ্লাস বা মেটাল ফিনিশ রয়েছে। এটি হালকা, টেকসই এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। এছাড়া চারপাশের বেজেলগুলো খুবই পাতলা এবং সমানভাবে ফ্রেমের মধ্যে সাজানো হয়েছে, যা স্ক্রিনকে বড় দেখায় এবং ফোনকে আধুনিক করে তোলে।

ফোনটির উচ্চতা 166.6 mm, প্রস্থ 78.4 mm, পুরুত্ব 8.4 mm এবং ওজন 219 গ্রাম। বাস্তবে ফোনটি কিছুটা ভারী মনে হলেও, ব্যবহার করার সময় প্রিমিয়াম অনুভূতি পাওয়া যায় এবং হাতের মধ্যে ধরে রাখতেও আরামদায়ক লাগে। এছাড়া, ফোনের পেছনের ক্যামেরা মডিউল উপরের বাম কোণে রাখা হয়েছে, যা ফোনটিকে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করে তোলে।
ফোনটিতে IP68/IP69 রেটিং ব্যবহার করা হয়েছে, যা ধুলোবালি প্রতিরোধ করে এবং 1.5 মিটার গভীর পানির নিচে সর্বোচ্চ 30 মিনিট পর্যন্ত ব্যবহার করার সুবিধা দেয়। বাজেটের তুলনায় এই আইপি রেটিং সত্যিই খুব সুবিধাজনক এবং ব্যবহারকারীর জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
ফোনটি Prismatic Green এবং Titan Black কালার ভেরিয়েন্টে পাওয়া যায়। এই রঙগুলো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত স্টাইলের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায় এবং ফোনটিকে আরও আধুনিক ও ট্রেন্ডি দেখায়। তাই বলা যায়, ফোনটি কেবল কার্যকরী উদ্দেশ্যে নয়, বরং লুক ও ডিজাইনেও ফ্যাশনেবলভাবে উপভোগ করা সম্ভব।
ডিসপ্লে এবং মাল্টিমিডিয়া
iQOO Z11x 5G স্মার্টফোনে 6.76‑ইঞ্চির IPS LCD ডিসপ্লে রয়েছে, যা ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্য বড় এবং সুবিধাজনক। বড় স্ক্রিনের কারণে ছবি ও ভিডিও আরও পরিষ্কার দেখা যায়। এছাড়া ডিসপ্লেটি 1200 নিট পর্যন্ত উজ্জ্বল হতে পারে, ফলে বাইরে বা তীব্র সূর্যালোকেও স্ক্রিন স্পষ্ট থাকে এবং ভিডিও বা ওয়েব পেজ আরও সহজে উপভোগ করা যায়।

ফোনটির স্ক্রিনে 120Hz রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে, ফলে স্ক্রল করা বা গেম খেলার সময় অভিজ্ঞতা অনেক মসৃণ এবং দ্রুত হয়। এছাড়া ডিসপ্লের স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও প্রায় 85.8%, যা বেজেল কমিয়ে আরও বড় ভিজ্যুয়াল জায়গা দেয়, ফলে ফোনটি দেখতে আধুনিক লাগে এবং ব্যবহারকারীর দেখার অভিজ্ঞতাও উন্নত হয়।
ফোনের স্ক্রিনের রেজোলিউশন FHD+ (1080x2344 পিক্সেল), ফলে ছবি ও ভিডিও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। গেম খেলার সময় রঙগুলো উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত মনে হয়। বড় স্ক্রিন থাকায় দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলেও চোখে চাপ পড়ে না, যার কারণে ভিডিও, ছবি বা গেম খেলার অভিজ্ঞতা আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও আনন্দদায়ক হয়।
ক্যামেরা
iQOO Z11x 5G স্মার্টফোনের রেয়ারে 50MP Sony IMX852 প্রাইমারি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে LED ফ্ল্যাশ, HDR ফিচার এবং বার্স্ট মোড (Continuous Shooting) সাপোর্ট করে। এই ক্যামেরা রঙের ভারসাম্য ঠিক রেখে স্পষ্ট ও সুন্দর ছবি তুলতে পারে। HDR ফিচার আলো-ছায়ার সমন্বয় বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে ছবি আরও প্রাকৃতিক দেখায়। এছাড়া বার্স্ট মোড দ্রুত চলমান বিষয়বস্তুর একাধিক ছবি একসাথে তোলার সুবিধা প্রদান করে।
সাথে রয়েছে 2MP Depth সেন্সর, যা ছবিতে প্রাকৃতিক গভীরতা যুক্ত করে এবং পোর্ট্রেট বা ব্লার ইফেক্টের মাধ্যমে মূল বিষয়কে আরও সুন্দরভাবে সামনে তুলে ধরে। এছাড়া ক্যামেরাতে আছে AI UHD Enhancement, Smart AI Editing Tools এবং AI Erase ফিচার, যার মাধ্যমে ছবি আরও স্পষ্ট, সুন্দর এবং প্রফেশনাল মানের হয়ে ওঠে।

ফোনটিতে আল্ট্রাওয়াইড বা ম্যাক্রো ক্যামেরার সুবিধা নেই, তাই দূরের বা ছোট বস্তুর ছবি জুম করলে খুব স্পষ্ট হয় না। ফোনের রেয়ার ক্যামেরা দিনের আলোতে চমৎকার ছবি তুলতে পারে এবং 4K@30fps রেজোলিউশনে ভিডিও রেকর্ড করতে পারে। তবে রাতে কম আলোর পরিবেশে ছবি তুললে কিছুটা কিছুটা ঝাপসাভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়া রাতে 4K@30fps রেজোলিউশনে ভিডিও করার সময়ও মান খুব ভালো পাওয়া যায় না।
ফোনের সামনে রয়েছে f/2.45 অ্যাপারচারের 32MP ফ্রন্ট ক্যামেরা। দিনে এই ক্যামেরা দিয়ে ভালো মানের সেলফি তোলা যায় এবং ভিডিও করা সম্ভব হয়। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো থাকলে মুখের রঙ ও ত্বকের টোন স্বাভাবিকভাবে ধরা পড়ে। এছাড়া ভিডিও রেকর্ডিং—ও 1080p@30fps রেজোলিউশনে ভালো মানের পাওয়া যায়। তবে রাতে কম আলোর পরিবেশে ভিডিও করা বা সেলফি তোলার সময় কিছুটা ঝাপসাভাব দেখা দিতে পারে।
সফটওয়্যার ও পারফরম্যান্স
iQOO Z11x 5G স্মার্টফোনটি OriginOS 6 ভিত্তিক Android 16 অপারেটিং সিস্টেমে চলে। এটি ব্যবহারকারীদের জন্য একটি স্মুথ এবং আধুনিক ইউজার ইন্টারফেস প্রদান করে। এছাড়া OriginOS 6 এর সাহায্যে ফোনের অ্যানিমেশন, নোটিফিকেশন এবং কাস্টমাইজেশন অনেক উন্নত হয়েছে, যা দৈনন্দিন ব্যবহারকে আরও সুবিধাজনক করে। আর Android 16 এর নতুন সিকিউরিটি ও পারফরম্যান্স আপডেট ফোনকে দ্রুত ও নিরাপদ রাখে, ফলে গেম খেলা, ভিডিও দেখা বা অ্যাপ ব্যবহার করার সময় আরও ভালো অভিজ্ঞতা উপভোগ করা যায়।

ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 4 ন্যানোমিটার ফেব্রিকশনে তৈরি MediaTek Dimensity 7400 Turbo প্রসেসর, যা 2.0 GHz থেকে 2.6 GHz ক্লক স্পীডে কাজ করে। সাথে রয়েছে Mali-G615 MC2 GPU এবং 6GB ও 8GB র্যাম, ফলে ফোনটি মাল্টিটাস্কিং, হাই-গ্রাফিক্স গেমিং এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে দ্রুত ও স্মুথ পারফরম্যান্স প্রদান করতে পারে।
সিকিউরিটির জন্য ফোনটিতে সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং ফেস আনলক ফিচার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফোনে 5G নেটওয়ার্ক, Wi-Fi 5, USB চার্জিং, Bluetooth 5.4 এবং NFC সাপোর্ট রয়েছে, যা দ্রুত কানেক্টিভিটি এবং নির্ভরযোগ্য ডেটা ট্রান্সফার নিশ্চিত করে। সব মিলিয়ে, ফোনের সফটওয়্যার এবং পারফরম্যান্স মিড‑রেঞ্জ ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ ভালো।
ব্যাটারি লাইফ এবং চার্জিং
iQOO Z11x 5G স্মার্টফোনে রয়েছে 7200mAh বড় ব্যাটারি, যা দীর্ঘ সময় ব্যবহারের সুবিধা দেয়। কোম্পানি দাবি করেছে, ফোনে মাত্র 10 মিনিট চার্জ দিলে 6 ঘণ্টা অডিও কলে কথা বলা যাবে এবং 5 বছর পর্যন্ত এই ব্যাটারি স্থায়ী পারফরম্যান্স প্রদান করবে। তবে আমি ফোনটিতে 100% চার্জ করে 10 ঘণ্টার মতো ফ্রী ফায়ার খেলেছি, তারপর চার্জ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে। আর সাধারণ ব্যবহার যেমন কল করা, ভিডিও দেখা বা হালকা বাঝারি সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করার ক্ষেত্রে প্রায় 2 দিনের বেশি টিকে থাকতে পারে।

ফোনটিতে চার্জের জন্য 44W ফাস্ট চার্জিং সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে মাত্র 43 মিনিটে 1% থেকে 50% চার্জ করা সম্ভব। চার্জ করার জন্য USB Type-C 2.0 ক্যাবল ব্যবহার করা হয়। সবকিছু মিলিয়ে, iQOO Z11x 5G স্মার্টফোনের বড় ব্যাটারি এবং ফাস্ট চার্জিং দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারের সুবিধা দেয়, ফলে ঘন ঘন চার্জ দেওয়ার ঝামেলা কমে যায় এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ফোনটি আরও নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশে মূল্য
শক্তিশালী ফিচার নিয়ে iQOO Z11x 5G স্মার্টফোন বাংলাদেশে আনঅফিশিয়ালি তিনটি ভ্যারিয়েন্টে এসেছে। ফোনের (6GB র্যাম+128GB স্টোরেজ) ভ্যারিয়েন্টের দাম ২৮,০০০ টাকা, (8GB র্যাম+128GB স্টোরেজ)-এর দাম ৩০,০০০ টাকা এবং (8GB র্যাম+256GB স্টোরেজ) ভ্যারিয়েন্টের দাম ৩৩,০০০ টাকা। ফোনটি আকর্ষণীয় দুইটি কালারে রয়েছে Prismatic Green এবং Titan Black। বর্তমানে এই ফোন বাংলাদেশের রিটেইলার শপ বা দোকানে পাওয়া যাচ্ছে।
iQOO Z11x 5G আপনার কেনা উচিত হবে কি?
iQOO Z11x 5G স্মার্টফোনের Mediatek Dimensity 7400 Turbo (4nm) প্রসেসর স্মুথ পারফরম্যান্স দেয়, ক্যামেরা 50MP Sony রেয়ার উন্নত মানের ছবি তুলতে পারে, 7200mAh বড় ব্যাটারি দীর্ঘ সময় ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করে এবং IP68/IP69 রেটিং ধুলোবালি ও পানি থেকে ফোনকে সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু ডিসপ্লে IPS LCD হওয়ার কারণে OLED বা AMOLED ডিসপ্লের মতো গভীর কালো রঙ বা উচ্চ কনট্রাস্ট দিতে পারে না। সব মিলিয়ে, আপনি যদি মিড‑রেঞ্জের মধ্যে দীর্ঘ লাইফ ব্যাটারি এবং সাধারণ ব্যবহার, মাল্টিটাস্কিং, ভিডিও দেখা, গেমিং এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য শক্তিশালী পারফরম্যান্স চান তাহলে এটি আপনার জন্য একটি ভালো বিকল্প।
সোর্স: এখানে ক্লিক করুন
Related Reviews
View More
Vivo X300 Ultra রিভিউ: সত্যই কি প্রিমিয়াম বাজেটের মধ্যে সেরা ক্যামেরা ও পারফরম্যান্স পাওয়া যায়?
আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং শক্তিশালী ফিচার নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে আনঅফিশিয়ালভাবে এসেছে Vivo X300 Ultra স্মা...
Oppo Find N6 রিভিউ: ২,৬০,০০০ টাকা দিয়ে এই স্মার্টফোন কেনা উচিত হবে কি?
উচ্চমানের / প্রিমিয়াম বাজেটের মধ্যে শক্তিশালী ফিচার নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে এসেছে Oppo Find N6 স্মার...
Samsung Galaxy A57 রিভিউ: ফ্ল্যাগশিপ বাজেটের এই স্মার্টফোনে কি সেরা পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে?
ফ্ল্যাগশিপ বাজেটের মধ্যে উচ্চ মানের ফিচার নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে আনঅফিশিভাবে এসেছে Samsung Galaxy A5...