Login Now

Login with email

Forgot Password

Infinix Note Edge রিভিউ: কেন কিনবেন এই স্মার্টফোন

MobileMaya Team
Publish On: Jan 28,2026 12:04 PM
153

Infinix Note Edge রিভিউ: কেন কিনবেন এই স্মার্টফোন

Our Rating
7.8
The overall rating is based on reviews by our experts
Display 8/10
Cameras 7/10
Battery 8/10
Processor 8/10
Storage 8/10
Good
  • 5G নেটওয়ার্ক
  • 6500mAh ব্যাটারি
  • MediaTek Dimensity 7100 প্রসেসর
Bad
  • MediaTek Dimensity 7100 প্রসেসর

মিড-রেঞ্জের মধ্যে উন্নত মানের ফিচার নিয়ে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের বাজারে অফিশিয়ালি লঞ্চ হয়েছে Infinix Note Edge স্মার্টফোন। ফোনটিতে রয়েছে Mediatek Dimensity 7100 প্রসেসর, যা গেমিং এবং মাল্টিটাস্কিংয়ে ভালো পারফরম্যান্স প্রদান করে। এছারা দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য এই ফোনে 6,500mAh বড় ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে।

ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 3D Curved AMOLED ডিসপ্লে, যা ভিডিও, ছবি বা গেম খেলার সময় স্ক্রিনের রঙ আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সাথে রয়েছে সহজে ব্যবহারযোগ্য XOS 16 ইন্টারফেস। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক Infinix Note Edge স্মার্টফোনের পারফরম্যান্স এবং দাম সম্পর্কে বিস্তারিত।

Infinix Note Edge ফোনের শক্তিশালী ফিচারসমূহ

  • প্রসেসর: MediaTek Dimensity 7100 প্রসেসর।
  • ডিসপ্লে: 6.78 ইঞ্চি 3D Curved AMOLED স্ক্রিন এবং 120Hz রিফ্রেশ রেট।
  • ব্যাটারি ও চার্জার: 6500mAh ব্যাটারি এবং 45W ফাস্ট চার্জিং।
  • বিল্ড : 7.2 mm আলট্রা স্লিম বডি এবং Corning Gorilla Glass 7i প্রটেকশন।
  • স্পিকার : JBL দ্বারা টিউন করা স্টেরিও স্পিকার।

বাক্সে যা থাকছে

Infinix Note Edge স্মার্টফোনের বক্স খুললে ভেতরে যেসব জিনিস পাওয়া যায় সেগুলো হলো:

  • Infinix Note Edge স্মার্টফোন
  • 45W ফাস্ট চার্জার
  • USB টাইপ-সি ক্যাবল
  • Protective Case
  • সিম ইজেক্টর টুল

বক্সের মধ্যে ইনফিনিক্স সবকিছু সুবিধাজনকভাবে সাজিয়েছে। বক্সে আপনি পাবেন Infinix Note Edge ফোন, 45W ফাস্ট চার্জিং অ্যাডাপ্টার, 45W চার্জিং ক্যাবল এবং একটি প্রোটেক্টিভ ব্যাক কভার, যাতে ফোন প্রথম দিন থেকেই সুরক্ষিত থাকে। এছাড়া রয়েছে সিম ইজেক্টর টুল, ব্যবহার নির্দেশিকা বই, ওয়ারেন্টি কার্ড এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র।

ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি

Infinix Note Edge ফোনটি দেখতে খুবই আধুনিক এবং প্রিমিয়াম লুকের। ফোনের উচ্চতা 163.1 মিমি, প্রস্থ 77.4 মিমি এবং বডি 7.2 মিমি স্লিম। এছারা ফোনটির ওজন (Silk Green) 185 গ্রাম এবং (Shadow Black, Stellar Blue, Lunar Titanium) 190 গ্রাম হলেও, এতে পর্যাপ্ত পরিমান ভারসাম্য রাখা হয়েছে। ফোনটি ব্যবহার করলে প্রিমিয়াম ফিল পাওয়া যায় এবং দীর্ঘ সময় হাতের মধ্যে ধরে রাখতেও স্বাচ্ছন্দ্য হয়। ফলে দৈনন্দিন কাজ যেমন মেসেজ পাঠানো, কল করা, ভিডিও দেখা বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সবকিছুই আরামদায়কভাবে করা যায়।


ফোনের সামনে ও পেছনে Corning Gorilla Glass 7i  প্রটেকশন ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ছোটখাটো ধাক্কা, স্ক্র্যাচ বা হালকা পড়া থেকে ফোনের গ্লাসকে সুরক্ষিত রাখে। ফোনের ক্যামেরা মডিউল উপরের বাম কোণে রাখা হয়েছে, তাই ফোনটি দেখতে চমৎকার ও আধুনিক লাগে। এছাড়া ফোনের পেছনের প্যানেলও প্রিমিয়াম মানের এবং সুন্দরভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। ফোনটিতে রয়েছে 3D Curved AMOLED ডিসপ্লে, যা মসৃণ এবং আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে JBL স্টেরিও সাউন্ড স্পিকার, যা ফোনে শক্তিশালী, পরিষ্কার এবং বাস্তবসম্মত শব্দ প্রদান করে। পাশাপাশি ধুলোবালি ও পানির ছিটা প্রতিরোধ করার জন্য ফোনটিতে রয়েছে IP65 রেটিং। যদিও আইপি রেটিং খুব একটা খারাপ নয়, তবে বাজেট অনুযায়ী আরো উচ্চ আইপি রেটিং দেওয়া যেত।

ডিসপ্লে এবং মাল্টিমিডিয়া

Infinix Note Edge স্মার্টফোনে রয়েছে  6.78 ইঞ্চির 3D Curved AMOLED ডিসপ্লে, যা ভিডিও, ছবি বা গেম খেলার সময় স্ক্রিনের রঙকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলে এবং চোখে আরামদায়ক লাগে। খুবই পাতলা বেজেল দিয়ে ফোনের ডিসপ্লে তৈরি করা হয়েছে, তাই স্ক্রিনটি অনেক বড় দেখা যায়। ফোনটির স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও 105.8%, ফলে ভিডিও বা সিনেমা দেখার সময় ছবি আরও বাস্তবসম্মত ও জীবন্ত মনে হয়।


ফোনের স্ক্রিনে FHD+ (1208x2644 পিক্সেল) রেজোলিউশন সমর্থন করে, যা ছবি ও ভিডিও-এর প্রতিটি ডিটেলস স্পষ্টভাবে দেখায় এবং গেম খেলার সময় স্ক্রিনের রঙ আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত মনে হয়। বড় স্ক্রিনের কারণে চোখে আরামদায়ক লাগে এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলেও চোখে কোন  চাপ পড়ে না। উচ্চ রেজোলিউশনের ফলে ভিডিও, ছবি বা গেম খেলার সময় ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আরও বাস্তব ও আনন্দদায়ক হয়।

ফোনটির স্ক্রিন সর্বোচ্চ 4500nits পিক ব্রাইটনেস পর্যন্ত উজ্জ্বল হতে পারে, তাই বাইরে বা তীব্র রোদে স্ক্রিন দেখা আরো সহজ হয় এবং ভিডিও বা ওয়েব পেজ আরও পরিষ্কার দেখা যায়। স্ক্রিনটিতে রয়েছে মজবুত ও স্ক্র্যাচ-প্রতিরোধী Corning Gorilla Glass 7i প্রটেকশন, যা দৈনন্দিন ছোটখাটো ক্ষতি, স্ক্র্যাচ বা পড়ে যাওয়া থেকে ফোনকে ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। এছারা এই স্ক্রিনে 120Hz রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে, ফলে স্ক্রল করা, গেম খেলা বা যেকোনো অ্যানিমেশন আরও মসৃণ ও দ্রুত মনে হয়।

ক্যামেরা

Infinix Note Edge স্মার্টফোনের রেয়ারে 50MP প্রাইমারি ক্যামেরা রয়েছে, যেখানে LED ফ্ল্যাশ, HDR এবং বিভিন্ন শুটিং মোড সাপোর্ট করে। এই ক্যামেরা সম্পূর্ণ ডিটেইল এবং রঙের সঠিক অনুপাতে চমৎকার ছবি তুলতে পারে। আর ক্যামেরাতে থাকা HDR ফিচারের মাধ্যমে আলো ও ছায়ার ভারসাম্য বজায় থাকে, ফলে ছবি আরও প্রাকৃতিক দেখায়। 

ফোনের রেয়ার ক্যামেরা 1440p 30fps রেজোলিউশন পর্যন্ত ভিডিও ধারণ করতে পারে। ফোনটিতে কোন আল্ট্রাওয়াইড বা মাইক্রো ক্যামেরার সুবিধা নেই, তাই দূরের বস্তুর ছবি তুললে খুব স্পষ্ট দেখা যায় না। এছারা ক্যামেরাতে 4K ভিডিও সমর্থন করে না, ফলে প্রফেশনাল বা অত্যন্ত শার্প ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হয় না। রাতের সময় ছবি তুললে স্ট্যান্ডার্ড ভিউ ঠিক থাকে, কিন্তু প্রিমিয়াম বা ভালো আলো‑পরিবেশের মত জায়গায়ও পরিষ্কার ছবি পাওয়া যায় না।


সেলফির জন্য ফোনের সামনে রয়েছে 13MP ফ্রন্ট ক্যামেরা। দিনে এই ক্যামেরা দিয়ে ভিডিওগ্রাফি মোটামুটি ভালো করা যায়, কারণ পর্যাপ্ত আলো থাকলে মুখের রঙ ও ত্বকের টোন স্বাভাবিকভাবে ধরা যায়। ভিডিও রেকর্ডিং 1440p 30fps‑এ ঠিক থাকে। সাধারণ ভিডিও কল, ভ্লগ বা সেলফির জন্য এই ক্যামেরা যথেষ্ট ভালো।

কিন্তু রাতে বা কম আলোতে ভিডিও এবং সেলফি তুলতে গেলে কিছু সমস্যা হতে পারে। 

যেমন, রাতে সাধারণ আলোতে ভিডিও রেকড করলে নোয়াইস, ব্লার বা কম ডিটেইল দেখা যায়। ফ্রন্ট LED বা স্ক্রিন ফিল লাইট ব্যবহার না করলে চেহারা কম উজ্জ্বল দেখাতে পারে। ফোনের নাইট মোড দিয়ে রাতের ছবি তোলা যায়, তবে রাতে ভিডিও খুব ভালো মানের হয় না।

সফটওয়্যার ও পারফরম্যান্স

Infinix Note Edge স্মার্টফোনটি XOS 16 ভিত্তিক Android 16 অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত হয়। এতে রয়েছে উন্নত ইউজার ইন্টারফেস, নতুন ডিজাইন এলিমেন্ট এবং মসৃণ অ্যানিমেশন, যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে। এটি প্রাইভেসি এবং সিকিউরিটির দিক থেকেও বেশ শক্তিশালী। পাশাপাশি XOS 16-এর বিভিন্ন কাস্টমাইজেশন অপশন, স্মার্ট জেসচার এবং প্রয়োজনীয় সিস্টেম টুলগুলো দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করে দেয়।


ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে Mediatek Dimensity 7100 প্রসেসর। 6 ন্যানোমিটার ফেব্রিকেশনে তৈরি এই চিপসের ক্লক স্পীড 2.0 GHz থেকে 2.4 GHz পর্যন্ত। এর সাথে রয়েছে Mali-G610 MC2 GPU এবং LPDDR5X 8GB র‍্যাম, ফলে দৈনন্দিন কাজ যেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা, ওয়েব সার্ফিং এবং মাঝারি মানের গেম খেলার জন্য এটি খুবই ভালো পারফর্ম করে।

সব মিলিয়ে বলা যায়: দৈনন্দিন কাজ যেমন কল করা, সোশ্যাল মিডিয়া চালানো, ভিডিও দেখা বা হালকা কাজের জন্য ফোনটি যথেষ্ট ভালো। তবে যারা ভারী গেম খেলতে চান বা হাই-এন্ড পারফরম্যান্সের কাজ যেমন গ্রাফিক্স-ভিত্তিক অ্যাপ বা বেশি প্রসেসিং দরকার হয় এমন কাজ করবেন, তাদের জন্য এই ফোনটি উপযুক্ত নয়।

ব্যাটারি লাইফ এবং চার্জার

Infinix Note Edge স্মার্টফোনে রয়েছে বড় 6500mAh ব্যাটারি, যা ফোনকে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের সুবিধা দেয়। কোম্পানি দাবি করেছে, ফোনে 100% চার্জ করলে 22 ঘণ্টা অফলাইনে ভিডিও দেখা যাবে, বাইরে চলাফেরার সময় GPS/নেভিগেশন চালু রেখে ফোনটি একটানা 26 ঘণ্টা চলবে এবং 6 বছর পর্যন্ত এই ব্যাটারি স্থায়ী পারফরম্যান্স প্রদান করবে। তবে বাস্তবে আমি ফোনটি ফুল চার্জ করে GPS চালু রেখে একটানা প্রায় 9 ঘণ্টা ব্যবহার করতে পারছি, আর গেম খেলতে পারছি প্রায় একটানা 6 ঘণ্টা।


ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে 45W ফাস্ট চার্জিং, যার মাধ্যমে ফোনে মাত্র 27 মিনিটে 1% থেকে 50% চার্জ করা সম্ভব হয়। সাথে রয়েছে 10W রিভার্স চার্জিং, এটি এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইস যেমন স্মার্টফোন বা হেডফোনে চার্জ করতে সাহায্য করে। বড় ব্যাটারি এবং দুই ধরনের চার্জিং সুবিধার জন্য ব্যবহারকারী দীর্ঘ সময় ফোন চালাতে পারে, বারবার চার্জ দেওয়ার ঝামেলা কমে যায় এবং ফোনটি দৈনন্দিন কাজের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে।

মূল্য

মিড-রেঞ্জের মধ্যে উচ্চ মানের ফিচার নিয়ে Infinix Note Edge স্মার্টফোন বাংলাদেশের বাজারে দুইটি এসেছে। ফোনের (8GB র‍্যাম+128GB স্টোরেজ) -এর দাম ২৯,৯৯৯ টাকা এবং (8GB র‍্যাম+256GB স্টোরেজ) ভ্যারিয়েন্টের দাম ৩১,৯৯৯ টাকা। ফোনটি আকর্ষণীয় চারটি কালারে রয়েছে Lunar Titanium, Silk Green, Stellar Blue এবং Shadow Black। বর্তমানে এই স্মার্টফোনটি কোম্পানি অনুমোদিত বাংলাদেশের বিভিন্ন দোকান ও রিটেইলার শপে পাওয়া যাচ্ছে।

Infinix Note Edge কেন কিনবেন

Infinix Note Edge স্মার্টফোনটি সুন্দর ডিজাইন, ব্যাটারি দীর্ঘ সময় ব্যবহারের সুবিধা দেয়, রেয়ার ক্যামেরা ভালো ছবি তুলতে পারে এবং ফোনের Mediatek Dimensity 7100 প্রসেসর ভালো পারফরম্যান্স দেয়। এছারা ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 6.78 ইঞ্চির 3D Curved AMOLED ডিসপ্লে, যেখানে 4500nits পিক ব্রাইটনেস, 120Hz রিফ্রেশ রেট এবং (1208x2644 পিক্সেল) রেজোলিউশন সাপোর্ট করে, যা ভিডিও দেখা বা গেম খেলার সময় স্ক্রিনের রঙকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। 

ফোনের ব্যাটারি বড় হলেও এর ডিজাইন মাত্র 7.2mm স্লিম, যা ব্যবহারকারীকে প্রিমিয়াম অনুভূতি দেয়। তবে ফোনের আইপি রেটিং এবং ফ্রন্ট ক্যামেরা খুব একটা ভালো নয়। চাইলে এই বাজেটে আরো উন্নত আইপি রেটিং ও ফ্রন্ট ক্যামেরা ব্যবহার করা যেত। সব মিলিয়ে বলা যায়: দৈনন্দিন কাজ, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বা মাঝারি মানের গেম খেলার জন্য যারা ফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প হবে।

সোর্স: এখানে ক্লিক করুন

MobileMaya Team
MobileMaya began serving Bangladesh's tech media landscape in 2014 by providing accurate technology news which continues to this day for more than ten years. The platform now ranks among Bangladesh's most respected mobile phone information networks that provide reviews and industry news updates.

Discussions