বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান OpenAI এখন শুধু সফটওয়্যার নিয়েই কাজ করতে চায় না। তারা একটি “AI এজেন্ট ফোন” তৈরির পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে নতুন এক প্রতিবেদনে, যা বর্তমান স্মার্টফোনের থেকে অনেক আলাদা হবে।
বিশ্লেষক মিং-চি কুও জানিয়েছেন, নতুন এই ফোনে ব্যবহারকারীদের এক অ্যাপ থেকে আরেক অ্যাপে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। ফোনে একটি বিল্ট-ইন এআই এজেন্ট থাকবে, যা ব্যবহারকারীর সব কাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজে থেকেই করে দেবে।
অর্থাৎ ব্যবহারকারীদের আর আলাদা করে ক্যালেন্ডার দেখা, মেসেজ চেক করা বা অ্যাপ পরিবরতনে কাজ করতে হবে না। শুধু একটি প্রশ্ন করলেই হবে। এরপর এআই নিজেই বাকি কাজ বুঝে নেবে। এছাড়াও ফোনটি ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে দেবে, বিভিন্ন বিকল্প সাজেস্ট করবে এবং প্রয়োজন হলে কাজও সম্পন্ন করে দেবে। শুনতে সহজ লাগলেও, এটি বর্তমান অ্যাপ ব্যবহার করার পদ্ধতির তুলনায় একটি বড় পরিবর্তন।
এর আগে এমন ধরনের ধারণা আনার কিছু চেষ্টা দেখা গেছে। যেমন Rabbit R1 কিছুটা অ্যাপের ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করেছিল, তবে তা ছিল সীমিত পরিসরে। কিন্তু OpenAI যে প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে বলে জানা যাচ্ছে, সেটি আরও অনেক বেশি বড় পরিকল্পনা। কারণ তারা এই ধারণাটিকে শুধু একটি সহায়ক ডিভাইস নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ স্মার্টফোনে বাস্তবায়ন করতে চাইছে।
হার্ডওয়্যার সম্পর্কে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিডিয়াটেক (MediaTek) এবং কোয়ালকম (Qualcomm)-এর সঙ্গে মিলে এমন একটি চিপ তৈরি করা হতে পারে, যা এআই-ভিত্তিক ভারী কাজ সহজে করতে পারবে। এই ডিভাইসটি তৈরি করার দায়িত্বে থাকতে পারে লাক্সশেয়ার (Luxshare), যারা আগে থেকেই বড় পরিসরে কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স তৈরি করে থাকে।
তবে এই ডিভাইসটি খুব শিগগিরই বাজারে আসবে না। এর স্পেসিফিকেশন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত হতে পারে ২০২৬ সালের শেষ দিকে বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এবং তৈরি করা শুরু হতে পারে ২০২৮ সালের দিকে বলে জানিয়েছে কুও। অর্থাৎ ফোনটি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুতি নিয়ে বাজারে আসতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
এখানে কিছু স্পষ্ট সমস্যা বা চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অ্যাপের ব্যবহার সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা বা এর গুরুত্ব কমানো মানে অনেক পুড়নো সিস্টেম ও অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে চলা। মানুষ এখন স্মার্টফোন যেভাবে ব্যবহার করতে অভ্যস্ত, তা পরিবর্তন করা সহজ নয়।
তবুও যদি OpenAI এই উন্নয়নের দিকেই এগিয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কেমন পরিবর্তন আসতে পারে তার একটি ধারণা পাওয়া যাবে। অ্যাপে বারবার ট্যাপ করার পরিবর্তে শুধু প্রয়োজন বললেই হবে, আর পুরো কাজটি সিস্টেম নিজেই করে দেবে—এমন দিকেই প্রযুক্তি এগিয়ে যেতে পারে।
সোর্স: মিং-চি কুও