সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল যে, OpenAI এআই-কেন্দ্রিক ইয়ারবাডসহ বিভিন্ন হার্ডওয়্যার ডিভাইস নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি, MediaTek ও Qualcomm–এর মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় একটি স্মার্টফোন তৈরির পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে এবার বিশ্লেষক Ming-Chi Kuo বিশেষ এআই এজেন্ট স্মার্টফোনের সম্ভাব্য সময়সূচি, ফিচার এবং সামগ্রিক পরিকল্পনা সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন।
OpenAI–এর এআই এজেন্ট ফোন তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে
Ming-Chi Kuo–এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, OpenAI তাদের প্রথম স্মার্টফোন দ্রুত তৈরি করতে পারে এবং ২০২৭ সালের শুরুতেই বড় পরিসরে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জানা গেছে, ফোনটিতে প্রসেসর হিসেবে MediaTek ব্যবহার করা হতে পারে। এটি সম্ভবত MediaTek Dimensity 9600–ভিত্তিক একটি কাস্টম চিপ হবে, যা ২০২৬ সালের শেষ দিকে TSMC–এর N2P প্রযুক্তিতে তৈরি করা হবে।
হার্ডওয়্যারটি মূলত এআই কাজের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে বলে জানা গেছে। ফোনটিতে দুইটি NPU থাকতে পারে, যা একসঙ্গে কাজ করে তথ্য দ্রুত প্রক্রিয়া করবে। পাশাপাশি এই ফোনে LPDDR6 র্যাম এবং UFS 5.0 স্টোরেজ ব্যবহার করা হতে পারে, যার ফলে এআইভিত্তিক কাজ করার সময় ফোনটি আরও মসৃণভাবে চলবে।
ক্যামেরার ক্ষেত্রে একটি উন্নত ISP (Image Signal Processor) ব্যবহার করা হতে পারে, যা ছবির আলো-ছায়ার মান আরও ভালো করবে। এর ফলে ডিভাইসটি বাস্তব পরিবেশকে আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং ছবি তুলতে বা ভিডিও স্পষ্টভাবে ধারণ করতে পারবে।
Ming-Chi Kuo আরও জানিয়েছে, এই ডিভাইসটি মানুষের স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরন পরিবর্তন করতে পারে। একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করার পরিবর্তে, ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী সরাসরি কাজ করার জন্য এআই এজেন্টগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ফোনটি ব্যবহারকারীর আচরণ ও ব্যবহার করার ধরন সবসময় বুঝে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ সহজ কাজগুলো ফোন নিজেই করতে পারবে, আর জটিল কাজগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্লাউড-ভিত্তিক এআই সিস্টেম ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হতে পারে। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য ফোনটিতে pKVM এবং ইনলাইন হ্যাশিংয়ের মতো ফিচার দেওয়া হতে পারে।
যদিও এই ফোনের স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, OpenAI যদি তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে, তাহলে ২০২৭ ও ২০২৮ সাল মিলিয়ে এর মোট শিপমেন্ট বা সরবরাহ প্রায় ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) ইউনিটে পৌঁছাতে পারে।
সোর্স: এখানে ক্লিক করুন