দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রের মালিকানাধীন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) পরিচালিত এমভিএনও (মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর) সিম সফলভাবে চালু হয়েছে।
মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি কারিগরি সকল পরীক্ষা শেষে এই সিমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি নিজের টাওয়ার ছাড়াই অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মোবাইল সেবা দিতে সক্ষম হলো।
মাঠপর্যায়ে সফল পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ
মঙ্গলবার দুপুরে বিটিসিএলের গুলিস্তান ও রমনা কার্যালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি পর্যবেক্ষণ করেন।
তিনি জানান, সিমটির মাধ্যমে ভয়েস কল, ডাটা সংযোগ, মোবাইল যোগাযোগ সেবা এবং জিপন (GPON) ইন্টিগ্রেশন—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের লাইভ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি কাগজে নয়, বাস্তব অ্যাক্টিভেশনের মাধ্যমে এর সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।
কিস্তিতে স্মার্টফোন সুবিধা ও কোয়াড-প্লে পরিষেবা
বিটিসিএলের এই উদ্যোগ কেবল একটি সিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে আরও নতুনধারার কিছু সেবা।
ট্রিপল ও কোয়াড প্লে সেবা: গ্রাহকরা একই প্যাকেজের আওতায় মোবাইল সিম, উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং ওটিটি (OTT) বিনোদন সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
সাশ্রয়ী স্মার্টফোন: সংস্থাটি নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য মাসিক মাত্র ৫০০ টাকা কিস্তিতে স্মার্টফোন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
টাওয়ার ছাড়াই সেবা: MVNO মডেল হওয়ায় বিটিসিএলের নিজস্ব স্পেকট্রাম বা টাওয়ার প্রয়োজন নেই; তারা বিদ্যমান অপারেটরদের নেটওয়ার্ক লিজ নিয়ে নিজেদের ব্র্যান্ডেড সিম পরিচালনা করবে।
লাইভ পাইলট
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে এই এমভিএনও সেবার 'লাইভ পাইলট' বা পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানা গেছে। এই ধাপে সীমিত সংখ্যক বাস্তব গ্রাহকের মাধ্যমে নেটওয়ার্কের গুণমান এবং বিলিং সিস্টেম যাচাই করা হবে। সফল পাইলট রান শেষে এটি সাধারণ মানুষের জন্য বাণিজ্যিকভাবে উন্মুক্ত করা হবে।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
বিটিসিএলের এই পদক্ষেপ বাজারে প্রতিযোগিতার মান উন্নয়ন করবে এবং গ্রাহকদের খরচ কমাতে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। তবে নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক এবং মানসম্মত গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করাই প্রকল্পের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ধারণা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার এই আধুনিক পদক্ষেপ বাংলাদেশকে আরো উন্নত করতে সাহায্য করবে।