প্রযুক্তি দুনিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যাপল তাদের হার্ডওয়্যার কৌশলে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে নতুন প্রজন্মের ডিভাইস তৈরি করার দিকে প্রতিষ্ঠানটি আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পণ্য উন্নয়নে এআই প্রযুক্তিকেই মূল শক্তি হিসেবে দেখছে অ্যাপল।
সম্প্রতি কোম্পানিটি ঘোষণা দিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধান নির্বাহী টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন জন টার্নাস। তিনি হার্ডওয়্যার প্রকৌশল খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন শীর্ষ নির্বাহী। এয়ারপডস, অ্যাপল ওয়াচ এবং ভিশন প্রো-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উন্নয়নে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।
নতুন নেতৃত্বের অধীনে অ্যাপল আবারও হার্ডওয়্যার-কেন্দ্রিক কৌশলে ফিরে যেতে পারে। তবে এবার এই কৌশলের মূল কেন্দ্র হবে এআই প্রযুক্তি। প্রতিষ্ঠানটি বড় বড় এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় না গিয়ে ব্যবহারকারীর ডিভাইসকে আরও স্মার্ট, সহজ এবং কার্যকর করে তোলার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।
শোনা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে অ্যাপল স্মার্ট চশমা, ক্যামেরা যুক্ত পরিধানযোগ্য ডিভাইস এবং এআই সমৃদ্ধ এয়ারপডসের মতো পণ্য বাজারে আনতে পারে। এসব ডিভাইস আইফোনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে এবং সিরি আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ভাঁজযোগ্য আইফোন নিয়েও এবার অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। যদিও প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে এ ধরনের ফোন বাজারে এনেছে, অ্যাপল এখনো অপেক্ষা করছে আরও শক্তিশালী প্রযুক্তির জন্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে, এই ডিভাইসটি আগামী সেপ্টেম্বরের দিকে বাজারে আসতে পারে।
এছাড়া অ্যাপল ঘরোয়া রোবট নিয়েও কাজ করছে। এর মধ্যে একটি টেবিলের মতো ডিভাইসের ধারণা আছে, যেখানে রোবোটিক বাহু থাকবে এবং এটি ব্যবহারকারীর দিকে ঘুরে কাজ করতে পারবে। পাশাপাশি আরও কিছু ধারণা আছে, যেমন একটি মোবাইল রোবট যা ব্যবহারকারীকে অনুসরণ করতে পারবে, অথবা ভিডিও কলের সময় চলমান স্ক্রিন হিসেবে কাজ করবে।
তবে এই পরিকল্পনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা অ্যাপলের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। আগে আইফোনের বড় অংশ চীনে তৈরি হলেও এখন কোম্পানিটি উৎপাদন বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে। জানা গেছে, গত বছরে ভারতের অংশে প্রায় এক-চতুর্থাংশ আইফোন তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এআইকে কেন্দ্র করে হার্ডওয়্যার কৌশলে বড় পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে অ্যাপল, যা ভবিষ্যতে তাদের পণ্য ও প্রযুক্তির ধরনকে নতুনভাবে নির্ধারণ করতে পারে।
সোর্স: অ্যাপল