বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি দৈনন্দিন কাজ, বিনোদন, পড়াশোনা, ব্যাংকিং সহ প্রায় সবকিছুরই মূল কেন্দ্র। তাই ফোনের পারফরম্যান্স কমে গেলে বা বারবার হ্যাং করলে বিরক্ত লাগে। অনেকেই নতুন ফোন কেনার কথাও ভেবে থাকেন, কিন্তু নতুন ফোন কেনার আগে আপনার বর্তমান ফোনের কিছু লুকানো সেটিংস পরিবর্তন করে দেখতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েডের ডেভেলপার অপশনস-এর মাত্র চারটি সেটিংস পরিবর্তন করলে আপনার পুরনো ফোনও নতুনের মতো দ্রুত কাজ করতে পারে। ফোনের পারফরম্যান্স বাড়ানোর ৪টি কার্যকর কৌশল নিচে দেওয়া হলো:
১. ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস সীমিত করুন: অ্যান্ড্রয়েড ফোন একসঙ্গে অনেক অ্যাপ চালাতে পারে, যা মাল্টিটাস্কিংয়ের সুবিধা দেয়। তবে অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকলে প্রসেসর ও র্যামের ওপর চাপ পড়ে, ফলে ফোন ধীরে কাজ করে। ডেভেলপার অপশনস থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস লিমিট অপশনটি ২ বা তার কমে সেট করলে একসঙ্গে কম অ্যাপ সক্রিয় থাকবে এবং দ্রুত কাজ করবে ফোন।
২. লগার বাফার সাইজ কমান: ফোনের প্রতিটি সিস্টেম কার্যকলাপ লগ হিসেবে রাখা হয়, যা মূলত ডেভেলপারদের কাজে লাগে। সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য এটি বেশি কাজে আসে না, বরং অতিরিক্ত মেমরি দখল করে রাখে। লগার বাফার সাইজ অপশনটি ৬৪কে বা ২৫৬কে-তে নামিয়ে দিলে মেমরি কম ব্যবহার হবে এবং ফোনের ওপর চাপও কমবে। আবার চাইলে এটি সম্পূর্ণ বন্ধ করেও রাখতে পারবেন।
৩. সর্বোচ্চ রিফ্রেশ রেট চালু করুন: অনেক স্মার্টফোনে উচ্চ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে থাকলেও ব্যাটারি বাঁচাতে এই সিস্টেম কমিয়ে দেয়। আপনি যদি স্ক্রলিং ও ভিজ্যুয়াল ট্রানজিশন আরও স্মুথ করতে চান, তাহলে ফোর্স পেক রিফ্রেশ রেট অপশনটি চালু করতে পারেন। এতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং বা গেমিং আরও মসৃণ ও দ্রুত হবে।
৪. অ্যানিমেশন স্কেল কমান: ফোনের মেনু ওপেন করা, অ্যাপ পরিবর্তন বা পপ-আপ দেখানো সবকিছু ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট অ্যানিমেশনের মাধ্যমে হয়। শক্তিশালী ফোনে এগুলো কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না, কিন্তু মাঝারি বা কম ক্ষমতার ফোনে পারফরম্যান্স কমিয়ে দিতে পারে। ডেভেলপার অপশনসে গিয়ে অ্যানিমেশন স্কেল কমিয়ে বা বন্ধ করলে ফোন আরও দ্রুত কাজ করবে।