Vivo তাদের নতুন Vivo X300 Ultra স্মার্টফোনে ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। অন্যান্য ক্যামেরা-কেন্দ্রিক Ultra স্মার্টফোনের থেকে ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করার জন্য Vivo Zeiss এবং জনপ্রিয় ক্যামেরা অ্যাকসেসরিজ নির্মাতা SmallRig যৌথভাবে কাজ করছে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে Vivo X300 Ultra স্মার্টফোনকে ছবি ও ভিডিও—উভয় ধরনের কনটেন্ট তৈরি করার জন্য একটি প্রিমিয়াম এবং পেশাদার মানের ডিভাইস হিসেবে ডিজাইন করা হবে।
ইতিমধ্যে ফোনটির জন্য একটি পেশাদার ফটোগ্রাফার কিটও আনা হয়েছে। কিটটিতে রয়েছে দুটি নতুন টেলিকনভার্টার লেন্স, একটি সুরক্ষিত কেস, উন্নত ক্যামেরা গ্রিপ এবং দুটি স্মার্ট হ্যান্ডেলসহ একটি বিস্তৃত ভিডিও কেজ। এই সব অ্যাকসেসরিজ ব্যবহারকারীদেরকে স্মার্টফোন দিয়েই আরও স্থিতিশীল ও পেশাদার মানের ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে সাহায্য করবে।
আগের Vivo X200 Ultra মডেলেও একটি ফটোগ্রাফি কিট ছিল, যার মধ্যে 200 মিমি সমতুল্য লেন্স অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ফোনের নেটিভ 85 মিমি লেন্সের সঙ্গে ব্যবহার করা যেত। পরবর্তী Vivo X300 Pro ফোনেও একটি নতুন সংস্করণ এসেছে। কিন্তু একই মাউন্ট থাকায় লেন্সগুলো একে অপরের সঙ্গে বিনিময়যোগ্য।
তবে Vivo X300 Ultra এক ধাপ এগিয়ে আছে। এতে থাকবে নতুন 400 মিমি সমতুল্য টেলিফোটো এক্সটেন্ডার, যা এটিকে সমস্ত ফটোগ্রাফি কিটের মধ্যে সবচেয়ে জুমিং ক্ষমতাসম্পন্ন করে তোলে। লেন্সটি Zeiss-এর সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে এবং একটি নতুন 200 মিমি লেন্সও দেওয়া হবে, যা পুরাতনের তুলনায় ছোট এবং আরও বেশি কমপ্যাক্ট।
নতুন 400 মিমি লেন্সটি বড় হলেও এটি পুরানো 200 মিমি লেন্সের দ্বিগুণ আকারের নয়। বাস্তবে পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, 400 মিমি লেন্সটি 200 মিমি লেন্সের চেয়ে কিছুটা লম্বা, তবে বেশ চওড়া।
এছাড়া নতুন 200 মিমি লেন্সটি আগের লেন্সের তুলনায় ছোট দেখায় এবং ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত করলে এটি আরও ভালোভাবে ভারসাম্য রাখে। অন্যদিকে 400 মিমি লেন্সের কারণে সেটআপটি সামনের দিকে কিছুটা ভারী হয়ে যায়। কিন্তু টেলিফটো লেন্সে ট্রাইপড মাউন্ট থাকার একটি কারণ হলো ক্যামেরার ওজনের চাপ কমানো। তাই এখন আমাদের পরীক্ষা করতে হবে যে ফটোগ্রাফি কিটের কেস নতুন 400 মিমি লেন্সের ওজন কীভাবে সামলায়।
ফটোগ্রাফি কিটের নতুন ক্যামেরা গ্রিপ আগের মডেলের তুলনায় আরও বেশি নিয়ন্ত্রণের সুবিধা দেয়। Vivo X300 Ultra-এর গ্রিপ বা কিটে থাকবে ভিডিও রেকর্ড বাটুন, স্ক্রোল হুইল, জুম লিভার এবং শাটার বাটুন। তবে নতুন গ্রিপে আরও একটি ফাংশন বাটুন এবং একটি ফ্ল্যাশ বাটুন যুক্ত করা হবে।
আগের মডেলের সব কিছুই শুধু ছবি তোলার দিকে কেন্দ্রীভূত ছিল। তাই Vivo চায় ব্যবহারকারীরা Vivo X300 Ultra-কে একটি পেশাদার ভিডিও ক্যামেরা হিসেবেও ব্যবহার করুক। এজন্য তারা SmallRig-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করে Pro Video Rig Kit তৈরি করেছে—যা ফোনটিকে কেন্দ্রে ধরে রাখবে এবং বিভিন্ন উপায়ে নিয়ন্ত্রণ সহজ করবে। এছাড়া প্রতিটি পাশে দুটি করে হ্যান্ডেল রয়েছে, যা ব্যবহারকারীকে আরও স্থিতিশীল গ্রিপ প্রদান করে। হ্যান্ডেলগুলিতে ব্লুটুথ নিয়ন্ত্রণযোগ্য শাটার বাটুন এবং জুম লিভারও আছে।
রিগটি একাধিক কোল্ড শু মাউন্ট এবং কুইক-রিলিজ পোর্টের মাধ্যমে আরও আনুষাঙ্গিক যুক্ত করা যায়, যেমন LED লাইট, ফোনের জন্য একটি সক্রিয় কুলিং ফ্যান, SSD, মাইক্রোফোন এবং মনিটর।
আনুষাঙ্গিক কিছু বাদ দিলেও, Vivo X300 Ultra নিজের মধ্যেই ভিডিও ধারনের ক্ষেত্রে বড় উন্নতি এনেছে। ফোনটির তিনটি ক্যামেরাতেই নেটিভ 10-বিট লগ সাপোর্ট রয়েছে। পাশাপাশি Vivo ভিডিওকে মসৃণ টোনাল রোল-অফ এবং ফিল্মের মতো টেক্সচারের জন্য অপ্টিমাইজ করেছে—অর্থাৎ ভিডিওগুলো অতিরিক্ত ধারালো নয় এবং খুব ডিজিটাল মনে হয় না। এটিকে 4K মাস্টার কালার ভিডিও বলে উল্লেখ করেছে Vivo।
পাশাপাশি শব্দ নিয়েও উন্নতি আনা হয়েছে—Pro Video অ্যাপটি আপনার বিষয়ের শব্দের দিকে ফোকাস করতে পারে। তবে এটিতে বহিরাগত মাইক্রোফোন সংযোগ করার সুবিধা থাকবে কিনা, তা এখনো জানা যায়নি।
ফটোগ্রাফি কিট এবং ভিডিও রিগ কিটের দাম এখনও জানা যায়নি। Vivo X300 Ultra কখন এবং কত দামে বাজারে আসবে, সে সম্পর্কেও Vivo কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। আমরা এখন পর্যন্ত যা জানি, তা হলো ফোনের 35mm প্রাইমারি ক্যামেরাতে 1/1.12 ইঞ্চির 200MP বড় ইমেজার ব্যবহার করবে, যা Vivo X200 Ultra-এর 1/1.28 ইঞ্চি 50MP শ্যুটারের তুলনায় একটি বড় উন্নতি।
সোর্স: এখানে ক্লিক করুন