দৈনন্দিন জীবনে স্মার্টফোন যেন এক অপরিহার্য উপকরণে পরিণত হয়েছে। এটি কেবল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয় বরং অফিসের কাজ পরিচালনা, বিভিন্ন সেবা গ্রহণসহ মানুষের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্মার্টফোনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে এরইমধ্যে শোনা যাচ্ছে, বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন নির্মাতারা ২০২৬ সালে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে, যেমন একদিকে স্মার্টফোনের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে শিপমেন্টের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এর প্রধান কারণ হলো ফোন তৈরির খরচ বৃদ্ধি। বিশেষ করে DRAM ও NAND ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ায় স্মার্টফোন তৈরিতে উল্লেখযোগ্যভাবে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার ইন্ডাস্ট্রি বিশ্লেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের শিপমেন্ট প্রায় ২.১ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। একই সময়ে স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ৬.৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এর সরাসরি প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়তে পারে, যেখানে স্মার্টফোনের দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপ তৈরির একটি বড় অংশ বর্তমানে AI ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড অবকাঠামোতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে ভোক্তাদের জন্য স্মার্টফোনে ব্যবহৃত মেমোরি সরবরাহ সীমিত হয়ে গেছে, যার ফলে স্মার্টফোন তৈরির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াচ্ছে।
অফিশিয়াল ফোনের পাশাপাশি, বাংলাদেশে সরকারের IMEI রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাক্স নীতিও উচ্চ বাজার মূল্যে আনঅফিশিয়াল ফোনের দাম বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করছে। ফলশ্রুতিতে আনঅফিশিয়াল ফোনের দাম আনুমানিক ১০–২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাবে বাজেট ফোনের ক্ষেত্রে, যা ভোক্তাদের ক্রয়ের খরচ বাড়াবে এবং বাজারে সস্তা বিকল্পের সুযোগ সীমিত করবে।
সোর্স: ঢাকা মেইল