বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের বাজারে শীর্ষ স্থান দখল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিযোগিতা চলছে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মধ্যে। এবারের প্রতিযোগিতায় স্যামসাংকে পেছনে ফেলে স্মার্টফোন বাজারের শীর্ষে এখন অ্যাপল। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অ্যাপলের স্মার্টফোন সরবরাহ আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের ২০ শতাংশ অ্যাপলের দখলে ছিল।
একই সময়ে স্যামসাংয়ের বাজার শেয়ার ছিল ১৯ শতাংশ। এর ফলে অ্যাপল বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্মার্টফোন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকেরা অ্যাপলের এই সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে শাওমি, যার বাজার শেয়ার ছিল ১৩ শতাংশ। এরপর আছে ভিভো ও অপো, উভয় প্রতিষ্ঠানেরই বাজার শেয়ার ছিল ৮ শতাংশ করে।
কাউন্টারপয়েন্টের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বরুণ মিশ্রা জানিয়েছেন, উন্নয়নশীল ও মধ্যম আয়ের বাজারে অ্যাপলের উপস্থিতি বাড়ায় আইফোনের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পণ্যের বৈচিত্র্যও বিক্রিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া অ্যাপল তুলনামূলক কম দামে আইফোন ১৬ই বাজারে এনেছে, যা বাজেট–সচেতন ক্রেতাদের মধ্যে কোম্পানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করেছে।
২০২৫ সালে স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন সরবরাহ ৫ শতাংশ বেড়েছে, তবে বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলে জানিয়েছে কাউন্টারপয়েন্ট। মাঝারি দামের ‘এ’ সিরিজের ফোনগুলো বিক্রি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রিমিয়াম বাজারে গ্যালাক্সি ফোল্ড ৭ এবং গ্যালাক্সি এস২৫ মডেলও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, অ্যাপল সামনে স্মার্টফোন পণ্যের পরিসর আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে, যা বাজারে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে স্যামসাংও নতুন মডেল এবং প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে।
বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে এগিয়ে থাকার জন্য অ্যাপল চলতি বছর তাদের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন উন্মোচন করতে পারে। অন্যদিকে স্যামসাংও কয়েক মাসের মধ্যে গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে বাজার দখলের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।
সোর্স: প্রথম আলো