মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক হ্রাস অব্যাহ্ত

সোমবার, জুলাই 27 2020
বাড়ছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের চাহিদা
dailyjagoron


বাংলাদেশে করোনাকালে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন, বিটিআরসি বলছে, ২০২০ সালে মাত্র তিন মাসেই প্রায় ২৩ লাখ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যাবহারকারী বেড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া রাষ্ট্রীয় এই নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটির একটি প্রতিবেদনে এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত করা এক জরিপে এই বিপুল সংখ্যক ব্রডব্যান্ড ব্যাবহারকারী বৃদ্ধির কথা জানা যায়। বিটিআরসি বলছে, ২০২০ সনের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক ছিলেন ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার, যা একই বছরের মে মাসে বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ লাখ ৮৪ হাজারে। প্রতিষ্ঠানটির মতে গত ৬ মাসে গড়ে অন্তত ৬ লক্ষ নতুন গ্রাহক ব্রডব্যান্ড কানেকশন নিচ্ছেন। অন্যদিকে এই তিন মাসে মোবাইল টেলিকম অপারেটরসমূহের ২ লাখ ৮ হাজার ইন্টারনেট সেবা গ্রহণকারী গ্রাহক কমেছে। ইন্টারনেট সেবায় মন্থর গতি, অধিক ইন্টারনেট ব্যয় এবং আনলিমিটেড ইন্টারনেট প্যাকেজের চাহিদার বিপরীতে গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করতে ব্যার্থ হচ্ছে মোবাইল টেলিকম অপারেটরসমূহ। অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রযুক্তি ও সক্ষমতার অভিযোগও তুলছেন গ্রাহকরা।

ব্যাপক হারে বাড়তে থাকা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গ্রাহক সংখ্যা এ বছরেই কোটি ছাড়ানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বিটিআরসি। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সংগঠন আইএসপিএবি বলছে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যাবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যা বিটিআরসির প্রকাশিত প্রতিবেদনের তুলনায় আরো বেশী এবং জুন-জুলাই মাসেই তা কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, “এই সময়ে বাসাবাড়িতে নতুন সংযোগ গ্রহণের হার বেড়েছে। সব মিলিয়ে গ্রাহকও বেড়েছে আমাদের। কিন্তু সেই হারে আমাদের আয় বাড়েনি।“ দেশের কর্পোরেট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাম্বার আইটির মতে, করোনা প্রাদুর্ভাব শুরুর পূর্বে তাদের প্রতিদিন ৩০টি নতুন সংযোগের ফরমায়েশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৬০টি। মূলত করোনা মহামারীতে চলতে থাকা লকডাউনে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস এবং চাকুরীজীবিদের বাসা থেকেই রিমোট অফিসের চাহিদায় বাসাবাড়িতে ব্রডব্যান্ড সংযোগ নেওয়ার হার বেড়ে যায়। এছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশে গ্রাহকদের বিভিন্ন স্ট্রিমিং সাইট, অ্যাপস, অনলাইন কোর্স, অনলাইন গেইমস, অনলাইনে বেচা-কিনা এবং লাইভে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখার প্রবণতাও বেড়েছে। উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে ১ হাজার ৭৫০ জিবিপিএস এর বেশি ব্যান্ডউই্থ ব্যবহার হচ্ছে।

share on