স্যামসাং আর গ্যালাক্সি নোট ৭ তৈরি কিম্বা বিক্রি করবে না
স্যামসাং আর গ্যালাক্সি নোট ৭ তৈরি কিম্বা বিক্রি করবে না
স্যামসাং আর গ্যালাক্সি নোট ৭ তৈরি কিম্বা বিক্রি করবে না
স্যামসাং আর গ্যালাক্সি নোট ৭ তৈরি কিম্বা বিক্রি করবে না


স্যামসাং অবশেষে গতকাল ঘোষণা দিল যে, তারা আর গ্যালাক্সি নোট ৭ তৈরি করবে না। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববাজারে এ সেট বিক্রি না করার সিদ্ধান্তও গ্রহন করেছে।

পৃথিবীবিখ্যাত কোম্পানি স্যামসাং একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবাইকে এই তথ্য জানিয়েছে। সেখানে তারা সকল নোট ৭ ব্যবহারকারীকে কেনা প্রথম ফোনটি বা বদলে নেয়া ডিভাইসটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে। খুচরা বিক্রেতা এবং ক্যারিয়ার পার্টনারদেরকেও তারা নোট ৭ বিক্রি বন্ধ করতে ও তা বদলে না দিতে অনুরোধ জানিয়েছে।

গতকালের ঘোষণায় স্যামসাং জানিয়েছে ‘আমরা এই অবস্থার সুরাহা করতে প্রয়োজনীয় সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহন করতে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সাথে আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

গ্যালাক্সি নোট ৭ সম্পর্কে শুরু থেকেই প্রযুক্তি প্রেমীদের গভীর আগ্রহ ছিল। কিন্তু বাজারে আসার পর থেকেই এর কার্যকারীতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্যামসাং সব আলোচনা সমালোচনার ইতি টানতেই ঘোষণাটি দিল। গত আগষ্ট মাসে আমরা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নোট ৭ এর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানতে পেরেছিলাম। এরপর এটি বাজারে এলে গ্রাহকেরা ফোনটি লুফে নেয়। কিন্তু এ পর্যন্ত বিষ্ফোরিত হওয়া কিম্বা জ্বলে যাওয়ার মতো ৩৫ ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে স্যামসাং এ বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বিবৃতি দেয়। এতে সকলেই একটু নড়ে চড়ে বসেন। বিভিন্ন এয়ারলাইন ও অনেক দেশের এয়ারপোর্টে এই ডিভাইসটির ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়।

স্যামসাং নানা ভাবে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছে। তারা পুড়ে যাওয়া গ্যালাক্সি নোট শুধু বদলে দিয়েছে তা নয়, তারা বিক্রি হওয়া সব কটি ফোন বদলে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বদলে দেয়া ফোনগুলিতে তারা সবুজ রঙের ব্যাটারি নির্দেশক দিয়ে দিয়েছে যেন সেগুলি অন্য নোট ৭ থেকে সহজে পৃথক করা যায়। এমন কি যারা তাদের ফোন বদলে নিতে আসেননি তাদের ফোনে ৬০% এর বেশি চার্জ না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা। কিন্তু এতো কিছু করেও কাজ হয়নি কারণ বদলে দেয়া ফোনেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সে রকমই একটি ঘটনা ঘটেছে সাউথওয়েষ্ট এয়ারলাইন্সের লুইসভিল থেকে বাল্টিমোরগামী ৯৯৪ নং ফ্লাইটে। বদলে নেয়া একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট৭ এ আগুন ধরে গেলে এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্লেন থেকে যাত্রী নামিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। পরবর্তীতে স্যামসাং সকল ক্রেতাকে ডিভাইসথেকে ব্যাটারী খুলে ফেলতে আহ্বান জানিয়েছে। এবং সব শেষে তারা ফোনটির উৎপাদন বন্ধ করেছে এবং এর সব ধরণের বিক্রিতেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

যে সব গ্যালাক্সি নোট ৭ এখন ক্রেতারা ব্যবহার করে চলেছেন সেগুলির বিষয়ে স্যামসাংয়ের সিদ্ধান্ত কী হয় সেটা দেখার জন্যে এই মূহুর্তে সবাই উদগ্রীব হয়ে আছেন।

বাংলাদেশে গ্রামীনফোন স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৭ বিক্রি করে আসছিল । তবে গতকাল থেকে তাদের ওয়েবসাইটে থাকা হ্যান্ডসেটের তালিকায় ডিভাইসটি আর দেখা যাচ্ছে না।